ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ । প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রামের উপর ভিত্তি করে নির্মিত
ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ
ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ
ডাইনি’ হইচই প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলা ওয়েব সিরিজ, যা মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গল্পটি দুই বোন, পাতা (মিমি চক্রবর্তী) ও লতা (কৌশানী মুখোপাধ্যায়), এবং তাদের কুসংস্কার ও ডাইনি প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রামের উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
সমালোচকরা সিরিজটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা প্রশংসা করেছেন। টিভি৯ বাংলার রিভিউ অনুযায়ী, সিরিজের চিত্রনাট্য টানটান এবং প্রতিটি পর্বের শেষে উত্তেজনা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। মিমি চক্রবর্তীর অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি পাতার চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে কিছু দৃশ্যে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে, যেমন লতার নামের ট্যাটু করে ধরা পড়ার বিষয়টি।ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ
সার্বিকভাবে, ‘ডাইনি’ সিরিজটি সমাজের কুসংস্কার ও ডাইনি প্রথার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে এবং দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অর্জন করেছে।ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ
ডাইনি: কুসংস্কার আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক তীব্র বিশ্লেষণ
“ডাইনি”—নামটি শুনলেই যেন এক রহস্যময়, গা ছমছমে পরিবেশের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। জনপ্রিয় বাংলা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচই-তে মুক্তি পাওয়া এই ওয়েব সিরিজটি সেই রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে। পরিচালক নির্ঝর মিত্র, যিনি এর আগে “শিকারপুর”-এর মতো থ্রিলার উপহার দিয়েছেন, “ডাইনি”-র হাত ধরে আবারও এক অন্ধকার জগতে দর্শককে টেনে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিশেষ করে এই সিরিজে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখার জন্য দর্শকের মধ্যে উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কুসংস্কার এবং বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া এই সিরিজটি কতটা দাগ কাটতে পারল, আসুন, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক।ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ
দুই বোনের গল্প আর ভয়াল উত্তরবঙ্গের প্রেক্ষাপট
“ডাইনি” ওয়েব সিরিজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই বোনের জীবন—পাতা (মিমি চক্রবর্তী) এবং লতা (কৌশানী মুখোপাধ্যায়)। তাদের সম্পর্ক প্রথম থেকেই বেশ শীতল, যার মূলে রয়েছে কিছু চাপা না বলা কথা । উত্তরবঙ্গের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে কাহিনিটি স্থাপিত, যেখানে আজও “ডাইনি প্রথা”-র মতো কুসংস্কারের বিষাক্ত শ্বাস বইছে । পরিচালক নির্ঝর মিত্রের এই অঞ্চলের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগ রয়েছে, যা সম্ভবত কাহিনিটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে । লতাকে যখন গ্রামের মানুষ ডাইনি সন্দেহে অভিযুক্ত করে, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করে। পাতা, যে কিনা একসময় গ্রাম ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিল, বোনের এই বিপদের খবর শুনে ছুটে আসে এবং তাকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে । তাদের এই যাত্রা একদিকে যেমন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই, তেমনই অন্যদিকে দুই বোনের মধ্যেকার সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণও তৈরি করে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, লতা এবং পাতা সহোদরা নয়; লতা ছিল পালিতা কন্যা । এই তথ্য তাদের সম্পর্কের জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং পাতাকে তার জীবন বিপন্ন করে বোনকে বাঁচানোর
অভিনয়: মিমি চক্রবর্তীর সাহসী পদক্ষেপ এবং অন্যান্যদের পারদর্শিতা
এই ওয়েব সিরিজে মিমি চক্রবর্তীকে দর্শক এক নতুন রূপে আবিষ্কার করবেন। সাধারণত গ্ল্যামারাস চরিত্রে দেখা গেলেও, “ডাইনি”-তে তিনি পাতা নামক এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নারীর ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন। চরিত্রের প্রয়োজনে তার মুখে রক্তের দাগ এবং গভীর ক্ষত দেখা যায়, যা এই চরিত্রে অভিনেত্রীর সাহসীকতাকে প্রমাণ করে । তার অভিনয় এতটাই শক্তিশালী যে তা দর্শকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে । অন্যদিকে, খলনায়কের চরিত্রে বিশ্বজিৎ দাসের অভিনয় বিশেষভাবে নজর কাড়ে। জঙ্গুরু নামক গ্রাম প্রধানের চরিত্রে তার নিষ্ঠুরতা এবং কর্তৃত্ব দর্শকদের মনে ভীতির সঞ্চার করে । কৌশানী মুখোপাধ্যায় লতার চরিত্রে ভালো অভিনয় করলেও, কিছু দর্শকের মতে তার চরিত্রে আরও গভীরতা আনা যেত । এছাড়াও, অন্যান্য পার্শ্বচরিত্রে সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং শ্রুতি দাসের মতো অভিনেতারাও তাদের নিজ নিজ ভূমিকায় যথাযথ ছিলেন । মিমি চক্রবর্তীর এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত তার অভিনয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে, যা তাকে কেবল একজন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন Versatile performer হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করবে। বিশ্বজিৎ দাসের খলনায়কের চরিত্রটি এতটাই জীবন্ত যে তা দীর্ঘকাল দর্শকের মনে থেকে যাবে।
পরিচালনা ও চিত্রনাট্য: নির্ঝর মিত্রের মুন্সিয়ানা এবং টানটান উত্তেজনা
পরিচালক নির্ঝর মিত্র আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনি থ্রিলার জনরার একজন দক্ষ কারিগর [“শিকারপুর”-এর পর] । উত্তরবঙ্গের গ্রামের পরিবেশ এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন । চিত্রনাট্যটি এতটাই টানটান যে প্রতিটি পর্বের শেষে দর্শকের মনে পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় । কাহিনির গতি বেশ দ্রুত, যা দর্শককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে । তবে, কিছু দর্শকের মতে, কাহিনির কিছু অংশে হঠাৎ ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহারের কারণে গল্পের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে । এছাড়াও, একদম শুরুতে একটি অ্যাকশন দৃশ্য এবং লতার নামের ট্যাটু হাতে ধরা পড়ার মতো কিছু বিষয় কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে । তবে, সামগ্রিকভাবে নির্ঝর মিত্রের পরিচালনা এবং চিত্রনাট্য দর্শকদের একটি উপভোগ্য থ্রিলার অভিজ্ঞতা দিতে সফল হয়েছে। কিছু দৃশ্যে, যেমন পূর্ণিমা রাতে জ্বলন্ত চিতায় চাঁদ এবং জঙ্গুরুর মাথার পিছনে টিউবলাইটের ব্যবহার, যা অনেকটা শিং-এর মতো দেখাচ্ছিল, পরিচালকের মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয় ।
বিষয় ও সমাজিক বার্তা: কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ
“ডাইনি” ওয়েব সিরিজটি কেবল একটি থ্রিলার নয়, এটি সমাজের এক গভীর ক্ষতকে তুলে ধরে—ডাইনি প্রথার নামে আজও বহু নিরীহ মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। পরিচালক নির্ঝর মিত্র স্পষ্টভাবেই এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে তারSeries-এর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছেন । এই কাহিনিতে নারী নির্যাতনের একটি ভয়াল চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কুসংস্কারকে ব্যবহার করে দুর্বল নারীদের দমিয়ে রাখা হয়। সিরিজটি অন্ধবিশ্বাস এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার অভাবের ভয়াবহ পরিণতি দেখায়। পরিচালক এই গল্পটিকে “সারভাইভাল থ্রিলার” ঘরানায় ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন, যা বলিউডের “এনএইচ টেন” বা দক্ষিণের “মঞ্জুমেল বয়েজ”-এর মতো ছবিগুলির কথা মনে করিয়ে দেয় । ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সিরিজটি প্রমাণ করে যে আজও সমাজের কিছু অংশে এই ধরনের কুসংস্কার বিদ্যমান । এই সিরিজটি দর্শকদের কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তিবাদী সমাজ গঠনের বার্তা দেয়।
সমালোচকদের দৃষ্টিতে “ডাইনি”: মিশ্র প্রতিক্রিয়া
“ডাইনি” ওয়েব সিরিজটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। টিভি৯ বাংলা এটিকে ৫-এর মধ্যে ৩.৫ রেটিং দিয়েছে, যেখানে চিত্রনাট্যের টানটান ভাব এবং মিমি চক্রবর্তীর অভিনয়ের প্রশংসা করা হয়েছে । আইএমডিবি-তে এর ইউজার রেটিং ৭.৬/১০ । তবে, একটি Featured Review-এ ১০-এর মধ্যে ৩ দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিত্রনাট্যের দুর্বলতা এবং Melodramatic tone-এর সমালোচনা করা হয়েছে, যদিও মিমি চক্রবর্তীর অভিনয়কে একমাত্র ভালো দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । সংবাদ প্রতিদিন-এর রিভিউতে সিরিজটির বিষয়বস্তু, অভিনয় (বিশেষত মিমি ও বিশ্বজিৎ), এবং পরিচালনা প্রশংসিত হয়েছে, তবে অতিরিক্ত সহিংসতা এবং ফ্ল্যাশব্যাকের ব্যবহার নিয়ে কিছু দ্বিমত রয়েছে । ইউটিউবেও বিভিন্ন রিভিউ দেখা যায়, যেখানে কেউ কেউ মিমি চক্রবর্তীর অভিনয়ে চমকিত হয়েছেন , আবার কেউ কেউ এটিকে সেরা বাংলা ওয়েব সিরিজ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ
ডাইনি বাংলা ওয়েব সিরিজ
আমাদের সাথে ইউটুব এ যুক্ত হতে ভিজিট করুন
আমাদের ফেসবুক টেলিগ্রামে দেখতে নিচের জয়েন হন আমাদের ফেসবুক এবং টেলিগ্রাম গ্রুপ এ